কিভাবে সহজে লম্বা হওয়া যায় | দুই থেকে তিন মাসে লম্বা হোন

লম্বা হওয়ার বিষয়টা সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জেনেটিক ভাবে মা-বাবার প্রজন্ম থেকেই হয়।সেখানে আমাদের কিছুই করার থাকেনা। বাকি ২০ থেকে ১০ শতাংশ বিভিন্ন নিয়ম মানার মাধ্যমে হয়ে থাকে। ছেলেরা ২০ বছর এবং মেয়েরা ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত লম্বা হয়। এই বয়স পার হলে বিভিন্ন ব্যায়াম ও খাবারের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব। এমনকি খাদ্যাভাসেও পরিবর্তন আনতে হবে।

আসুন লম্বা হওয়ার কিছু সহজ উপায় জেনে নিই।

পেজ সূচিপত্রঃ কিভাবে সহজে লম্বা হওয়া যায়

লম্বা হওয়ার উপায়

সাধারণত ছেলে-মেয়ের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের উপরে গেলে প্রাকৃতিকভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি পায় না। তাই উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ব্যায়াম বা কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। যেহেতু শরীর মোটা হলে দেখতে খাটো মনে হয় তাই শরীরকে ফিট রাখতে হবে। লম্বা হতে হলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে যেমনঃ

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

  1. ভিটামিন ডি যে সকল খাদ্যে রয়েছে যেমন -কমলালেবু, পনির, মাশরুম, দুধ। সে সকল খাদ্য বেশি পরিমাণে খেতে হবে। রোদ গায়ে লাগালেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তবে শরীরের রঙের ওপর ভিত্তি করে এর প্রভাব পড়ে। যদি আপনি ফর্সা হয়ে থাকেন তাহলে রোদে আধা ঘন্টা থাকলে যথেষ্ট। আর যদি আপনি কালো হয়ে থাকেন তাহলে সর্বনিম্ন এক ঘন্টা থাকতে হবে। তাহলে এর ফলাফল ভালো পাবেন।
  2. প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। লিন প্রোটিন বেশি বেশি খাবেন। মুরগির মাংস, মাছ, দুধ জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে লিন প্রোটিন থাকে। প্রোটিনের অভাবে মানুষের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
  3. ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে যেমন- দুধ, দই ইত্যাদি। ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার হাড় লম্বা করতে সাহায্য করে।
  4. শর্করা এবং জিংক জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার যেমন- রুটি ওটস খেজুর কলা এবং আপেল। জিংক জাতীয় খাবার যেমন- মাংস, চিংড়ি, ডিম, বাদাম, সিম ইত্যাদি। তবে চিনি জাতীয় খাবার পরিমাণে কম খেতে হবে। এর পরিবর্তে আপনি খেতে পারেন ভাত, আলু ইত্যাদি।
সব সময় সুষুম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এর অর্থ হল সার্বিক দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান যেমন প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, শর্করা, জিংক, ভিটামিন ডি সঠিক নিয়মে প্রতিদিন খেতে হবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম
রাতে কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। এর কম ঘুমালে হবে না। কারণ যখন আমরা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকি তখন আমাদের শরীরে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়।
সাধারণত ২০ বছর বয়স পর্যন্ত ঘুমের মধ্যে হরমোন উৎপাদিত হয়। এই হরমোন আমাদের শরীরকে লম্বা করতে সাহায্য করে।

ব্যায়াম
উচ্চতা বাড়ানোর জন্য ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোন কিছু ধরে ঝুলে থাকা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, দড়ি লাফ খেলা, দৌড়ানোর মাধ্যমেও উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব। এসব অভ্যাস তেমন গ্রোথ হরমোন বাড়ায় ঠিক তেমনি হাড়ের দৈর্ঘ্যও বাড়য়। 

বর্তমান সময়ে সাইকেল চালানো বেশি কার্যকর। কারণ সাইকেলে এখন সিট উঁচু করা যায়। যার ফলে পিঠ সোজা হয়ে থাকে। আপনি আরো অনেক কিছু করার মাধ্যমে শুধু ঘরে বসেই ব্যায়াম করতে পারবেন যেমন-
  1. দেয়াল বরাবর দাঁড়িয়ে দেয়ালে পিঠ এবং মাথা সোজাভাবে লাগিয়ে দাঁড়াবেন। এতে করে আপনার মেরুদন্ড প্রসারিত হবে।
  2. চলাফেরা করার সময় ইট সোজা করে রাখতে হবে। 
  3. অনেকে ল্যাপটপ কম্পিউটার চালানোর সময় পিঠ কুজো হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আপনি পিঠে বালিশ বা যে কোন প্রকার সাপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন।
বদ অভ্যাস ত্যাগ করা
আপনি যদি সিগারেট, অ্যালকোহল বা মদ্য পান করে থাকন, তাহলে এটা আপনার শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং এটা আপনার গ্রোথ হরমোন কেউ নষ্ট করে। যার ফলে আপনার উচ্চতা লোপ পায়। তাই এ সকল খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

সর্বশেষ মতামত

একটা কথা সব সময় মাথায় রাখবেন, ধৈর্য সবচেয়ে বড় জিনিস। আপনার ওজন কখনোই হুট করে বেড়ে যাবে না। আপনাকে ২ থেকে ৩ মাস এ নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। আর এতে যদি কাজ না হয় তাহলে আপনাকে একজন পুষ্টিবিদ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রুলার বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url